তৃণমূলের নারী ও তরুণদের বাজেট প্রত্যাশা

জেলা বাজেট ও বাজেট সংস্কার কমিশন গঠনে প্রস্তাব

অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, বৈষম্যহীন নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণে জাতীয় বাজেটে তরুণ ও নারীর অগ্রাধিকারের বিকল্প নেই। তৃণমূলের অংশগ্রহণে জেলা বাজেটের প্রচলন ও বাজেটের কাঠামোগত সংস্কারের জন্য অন্তর্বর্তী সরকারকে কমিশন গঠন করা যেতে পারে।

দেশে জেলাভিত্তিক আলাদা কোনো বাজেট রাখা হয় না। বিশেষ করে জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে সৃষ্ট সংকট মোকাবেলার ক্ষেত্রে এ ধরনের উদ্যোগ নেই। যেটি বিভিন্ন জেলার মধ্যে বাজেট বরাদ্দের ক্ষেত্রে বৈষম্য সৃষ্টি করে। ফলে প্রান্তিক নারী ও তরুণদের অংশগ্রহণে জেলা বাজেট প্রণয়ন এবং বাজেট সংষ্কারের একটি কমিশন গঠন করা জরুরি।

আজ শনিবার (২১ ডিসেম্বর) রাজধানীর মোহাম্মদপুরে ইয়ং উইমেন্স ক্রিশ্চিয়ান অ্যাসোসিয়েশনে (ওয়াইডব্লিউসিএ) ডেমোক্রেটিক বাজেট মুভমেন্ট (ডিবিএম) জাতীয় সংলাপে বক্তারা এসব দাবি জানান।

গণতান্ত্রিক বাজেট আন্দোলনের সদস্য জাকিয়া শিশিরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের যুগ্মসচিব কাজী মোখলেছুর রহমান। আলোচক হিসেবে ছিলেন সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) গবেষণা পরিচালক ড. খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম, বিভিন্ন এনজিওর প্রতিনিধি এবং বিভিন্ন জেলার নারী ও তরুণরা।

অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, বৈষম্যহীন নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণে জাতীয় বাজেটে তরুণ ও নারীর অগ্রাধিকারের বিকল্প নেই। তৃণমূলের অংশগ্রহণে জেলা বাজেটের প্রচলন ও বাজেটের কাঠামোগত সংস্কারের জন্য অন্তর্বর্তী সরকারকে কমিশন গঠন করা যেতে পারে। বিশেষ করে জলবায়ূ পরিবর্তনের কারণে অনেকেই ঘর-বাড়ি ছাড়া হচ্ছেন, অনেকেই কর্মসংস্থান হারাচ্ছেন। কিন্তু জেলাভিত্তিক বাজেট না থাকায় কোনো কোনো জেলা বরাদ্দের ক্ষেত্রে বৈষম্যের শিকার হচ্ছে। শহরাঞ্চলে বাজেট বেশি রাখা হয়, কিন্তু উপকূলীয় অঞ্চলে জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে সৃষ্ট ক্ষতি সবচেয়ে বেশি হলেও সেখানে বাজেট অপ্রতুল। আবার যেটুকু বাজেট দেয়া হয় সেটি বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে দেখা যায় রাজনৈতিক স্বদিচ্ছার অভাব।

অনুষ্ঠানে তৃণমূল ও জেলা পর্যায়ের নারী ও তরুণদের স্থানীয় চাহিদা, চ্যালেঞ্জ ও বাজেট প্রত্যাশার ওপর একটি অংশগ্রহণমূলক গবেষণার প্রাথমিক প্রতিবেদনের সার-সংক্ষেপ উপস্থাপন করা হয়। গবেষণায় তারুণ্যের বাজেট, জেন্ডার বাজেট ও জলবায়ু বাজেট বিষয়ে ৯টি জেলার সাধারণ নাগরিক ও ভুক্তভোগী জনগণের পর্যালোচনা, চাহিদা ও সুপারিশ তুলে ধরা হয়। তরুণদের জন্য কার্যকরী দক্ষতা প্রশিক্ষণের প্রচলন, প্রশিক্ষণ পরবর্তী কর্মসংস্থান নিশ্চিতে কৌশল নির্ধারণ, স্টার্টআপ ফান্ড তৈরি, যুব ব্যাংক সৃষ্টি, নিয়মিত কর্মসংস্থান মেলার আয়োজন, তরুণদের মানসিক স্বাস্থ্য, সাংস্কৃতিক ও মানসিক বিকাশ, যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় থেকে যুব মন্ত্রণালয় পৃথকীকরণসহ বিভিন্ন পরামর্শ তুলে ধরা হয় এ অংশগ্রহণমূলক গবেষণায়।

জেন্ডার বাজেট আলোচনায় জাতীয় বাজেট প্রণয়নে নারীর অংশগ্রহণ, নারীদের যুগোপযোগী দক্ষতা প্রশিক্ষণ ও মার্কেট প্লেস তৈরি, নারী ও শিশু ভাতার পরিধি ও পরিমাণ বৃদ্ধি ও যথাযথ ক্যাশ ট্রান্সফার পদ্ধতির প্রচলন করার প্রস্তাব করা হয় এ গবেষণায়। এছাড়া নারীর প্রজনন স্বাস্থ্য, ভিকটিম সাপোর্ট সেন্টারে বিনিয়োগ বৃদ্ধি, ডে-কেয়ার সুবিধা, স্যানিটেশন ও নিরাপদ পরিবহন ব্যবস্থা নিশ্চিত করার কথা উঠে এসেছে এ গবেষণায়।

জলবায়ু বাজেটের আলোচনায় দেখা যায় যে বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প স্থানীয় মানুষের যথাযথ চাহিদা নিরূপণ ও যাচাই বাছাই ছাড়াই প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন হচ্ছে। এক্ষেত্রে তারা নেতিবাচক প্রভাবের সম্মুখীন হচ্ছে। জলবায়ু প্রশমন ও অভিযোজন প্রকল্পে অগ্রাধিকার প্রদান, উপকূল ও বৃহৎ নগরীর জলাবদ্ধতার স্থায়ী সমাধান, নদীর প্রবাহ উন্নত করতে ড্রেজিংয়ে বরাদ্দ, সৌর বিদ্যুৎ গ্রিড ও বায়োগ্যাস প্ল্যান্টের মতো নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে ভর্তুকি প্রদানের প্রস্তাব করা হয়ে আলোচনায়।

আলোচনায় বক্তারা বলেন যে জাতীয় বাজেট প্রণয়ন প্রক্রিয়াটি কোন কোন পর্যায়ে অগণতান্ত্রিক ও অর্ধগণতান্ত্রিক। সাধারণ বা স্থানীয় মানুষের আকাঙ্ক্ষা এ বাজেট প্রক্রিয়ায় ধারণ করা সম্ভব হচ্ছে না। এজন্য সংসদীয় কার্যপ্রণালী বিধির সংশ্লিষ্ট ধারার সংশোধন করার ওপর বক্তারা জোর দেন।

আরও